সাধারণ ছুটি শুরুর পর মোবাইলে গড়ে ভয়েস কল কমেছে ২০ শতাংশের মতো। বিপরীতে ২৫ শতাংশ বেড়েছে ইন্টারনেটের ব্যবহার। তবে গ্রাহকদের অভিযোগ, ভয়েস কলে মিলছে না গুণগত সেবা। আর ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়লেও, বাড়েনি সেবারমান।
এমন পরিস্থিতিতে গত ১২ এপ্রিল সরকারের কাছে ব্যান্ডইউথ সহযোগিতা চেয়ে যৌথভাবে চিঠি দিয়েছিলো রবি, বাংলালিংক এবং টেলিটক। এরপর ছাড়ে অথবা রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলে তরঙ্গ বরাদ্দ চায় গ্রামীণফোনও। কিন্তু নেটওয়ার্ক পরিকল্পনার পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরঙ্গ পাওয়ার অসুবিধা সমাধানের বিষয়টি আবেদনের এক মাস পরও সুরাহা হয়নি। বিপরীতে তরঙ্গ নিলাম এবং ফ্রি আলোচনায় পুরো বিষয়টি চাপা পড়ে গেছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর একজন
বাংলালিংক এর চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন,
ফ্রি নয়, মহামারির কারণে সেবামান অক্ষুন্ন রাখতেই সরকারে কাছে তরঙ্গ ধার চেয়েছিলাম আমরা। মহামারির পর দেশের বিভিন্ন থানায় গ্রাহকদের মধ্যে ডেটার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সেবার মানকে অক্ষুন্ন রাখতে এই তরঙ্গ সরবরাহ চাওয়া হয়।
তবে বাংলালিংক এর গ্রাহক প্রতি বরাদ্দকৃত তরঙ্গ এবং ২০১৭-১৮ সালে বিপুল অংকের ডলার টাকার ব্যাটারি পরিবর্তন করায় বাংলালিংক গ্রাহকদের সেবা ততটা বিঘ্নিত না হলেও গ্রাহক যাদের বেশি তারাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মহামারির কারণে বাংলালিংক এর ঢাকা, খুলনা এবং ময়মনসিংহের কয়েকটি থানায় চাপটা বেড়েছে। এজন্য তারা এই আবেদন করেছিলো।
আবেদনে বলা হয়েছিলো, যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড, জরডান এবং সৌদি আরবে নিয়ন্ত্রকসংস্থাগুলো সেখানকার মোবাইল অপারেটরগুলোকে ফ্রি তরঙ্গ সুবিধা দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। ১৮০০-২১০০ ব্যান্ডে অব্যহৃত অব্যবহৃত ২৪.৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ থেকে বিনামূল্যে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়।
এ বিষয়ে
রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম বলেন,
প্যান্ডামিক সিচ্যুয়েশনের কারণে আমরা আবেদন করেছিলাম। কিন্তু রেসপন্স দেওয়া হয়নি। ফলে এখন টেকনিক্যালি নেটওয়ার্ক এর অনেকগুলো প্যারামিটার পরিবর্তন করে সাধ্যমতো চেষ্টা করছি কম তরঙ্গ দিয়ে যতটুকু সম্ভব ভালো সেবা দেয়ার। আর শেষতক যদি আবেদেনে সাড়া না-ই পাওয়া যায় তবে ঈদের পরে আমরা রোলআউট শুরু করবো। তবে ইক্যুয়েপমেন্ট কিনতে টাকা দেশের বাইরে চলে যাবে। সেটা কারো জন্যই ভালো না।
তরঙ্গ বিষয়ক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ
মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ জানান , গ্রাহক প্রতি তরঙ্গ ব্যবহারের পরিমাণে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে গ্রামীণফোন। এক্ষেত্রে এক মেগাহার্জের বিপরীতে ২২ লাখ গ্রাহককে সেবা দেয় তারা। একইভাবে রবি ১৮ লাখ, বাংলালিংক ১২ লাখ এবং রাষ্ট্রায়ত্ব অপারেটর টেলিটক ৪৪ হাজার গ্রাহকের জন্য এক মেগাহার্জ করে তরঙ্গ ব্যবহার করে থাকে।
এমন পরিস্থিতে অব্যবহৃত তরঙ্গ থেকে আকস্মিকভাবে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের মানসম্মত টেলিসেবা দেয়ার স্বার্থে ‘ফ্রি’ দেয়া না হলেও জরুরী সেবা বিবেচনায় এই সমস্যা সমাধানে সরকার তরঙ্গ ‘ঋণ’ দেয়ার একটি পথ সরকার সহসাই বাতলে দিবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বাংলাংলিংক কর্মকর্তা তাইমুর রহমান।
এ বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালার অধীনে অপারেটররা বিষয়টি সরকারের কাছে উপস্থাপন করলে তা সমাধানে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এ বিষয়ে তিনি অপারেটরদের সম্মিলিত ভাবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বসে সমাধানের সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন।
অপরদিকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেছেন, আইনে থাকলে আমরা তাদের সব সুবিধা দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। তবে কোনো কিছু ফ্রি বা মওকুফ নয়; আমরা প্রয়োজনে জরুরী অবস্থা বিবেচনায় তরঙ্গমূল্য পরিশোধের সময় পিছিয়ে দিতে পারি। আর নিলাম ছাড়া তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়ার কোনো বিধান না থাকায়, বিদ্যমান আইনের অধীনেই এর একটা পথ খুঁজে বের করতে হবে অপারেটরদেরকেই। তারা আমাকে আইন দেখালে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।
অবশ্য এই আলাপ-আলোচনার মধ্যেই ইন্টারনেটের ব্যবহার যেমনটা দিন দিন যখন বাড়ছে, এরসঙ্গে মানসম্মত সেবা নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছেই।